
সংক্ষেপে উত্তর: cold email এর সিগনেচার হবে ছোট আর সাধারণ টেক্সটে: আপনার পুরো নাম, পদবি বা আপনি কী করেন, কোম্পানির নাম, ওয়েবসাইট, আর চাইলে একটা ঠিকানা। বড় লোগো, ব্যানার, অনেকগুলো সোশ্যাল আইকন আর লম্বা আইনি নোটিশ বাদ দিন। সিগনেচারের কাজ একটাই: প্রাপককে বোঝানো আপনি একজন আসল মানুষ, আসল ব্যবসা চালান।
অচেনা মানুষ সিগনেচারে কী খোঁজে
ভাবুন আপনি নিজে একটা অচেনা ইমেইল পেলেন। লেখাটা ভালো লাগলো। এরপর আপনার চোখ যায় নিচে, কে পাঠালো? নাম আছে কিনা, কোম্পানির নাম দেখে গুগল করা যায় কিনা, ওয়েবসাইটটা আসল কিনা।
একটা ভালো ইমেইলের নিচে যদি শুধু “Thanks” থাকে, নাম নেই, তাহলে সন্দেহ জাগে। আবার সিগনেচার যদি পুরো ইমেইলের চেয়ে বড় হয়, ছবি আর ব্যানারে ভরা, তখন মনে হয় এটা মার্কেটিং ইমেইল, ব্যক্তিগত না।
কী রাখবেন, কী বাদ দেবেন
| রাখুন | বাদ দিন |
|---|---|
| পুরো নাম | বড় লোগো বা ব্যানার ছবি |
| পদবি বা এক লাইনে কাজের বর্ণনা | পাঁচ ছয়টা সোশ্যাল মিডিয়া আইকন |
| কোম্পানির নাম | অনুপ্রেরণামূলক উক্তি |
| ওয়েবসাইট, টেক্সট লিংক হিসেবে | লম্বা গোপনীয়তা নোটিশ |
| ঠিকানা, যদি দরকার হয় | একাধিক ফোন নাম্বার আর ঠিকানা |
ছবি আর অনেক লিংক কেন বাদ দিতে বলছি? cold email এ যত কম লিংক আর ছবি, ইমেইল তত সাধারণ ব্যক্তিগত ইমেইলের মতো দেখায়। অনেক প্র্যাকটিশনার মনে করেন এতে ডেলিভারেবিলিটিও ভালো থাকে। একটা ওয়েবসাইট লিংক যথেষ্ট।
তিনটা সিগনেচার উদাহরণ
একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য:
Saif Rahman
Shopify speed and conversion
saifrahman.com
একটা ছোট এজেন্সির জন্য:
Nadia Islam
Founder, Brightpixel Studio
getbrightpixel.com
আমেরিকার ক্লায়েন্টদের জন্য, যেখানে ঠিকানা রাখতে চান:
Tanvir Ahmed
Email flows for skincare brands
Northwave Digital, 123 Example St, Wilmington, DE
northwavedigital.com
খেয়াল করুন, তিনটাই তিন থেকে চার লাইনের। কোনোটায় ছবি নেই। ঠিকানাটা উদাহরণ, আপনি নিজের আসল ঠিকানা দেবেন।
প্রোফাইল ছবি আর From নাম
সিগনেচারের বাইরে আরও দুটো জিনিস বিশ্বাস তৈরি করে:
- From নাম: “Saif Rahman” লিখুন, “Brightpixel Sales Team” না। মানুষ মানুষের ইমেইল খুলতে বেশি আগ্রহী।
- প্রোফাইল ছবি: Google Workspace বা Outlook অ্যাকাউন্টে নিজের একটা পরিষ্কার ছবি দিন। Gmail এ অনেক সময় এই ছবি প্রাপকের কাছে দেখা যায়।
এছাড়া একই নাম দিয়ে LinkedIn প্রোফাইল আপডেট রাখুন। অনেকে ইমেইল পেয়ে নাম দিয়ে LinkedIn এ খোঁজেন। সেখানে আপনার কাজের সাথে মিল পেলে বিশ্বাস বাড়ে।
একটা ছোট ট্রিক
অনেকে সিগনেচারের নিচে একটা ভদ্র না বলার লাইন রাখেন, যেমন “Not the right person? Let me know and I will not follow up.” এতে প্রাপক সহজে বলতে পারে, আর আপনার লিস্টও পরিষ্কার থাকে। cold email টুলে এই লাইনটা প্রতিটা ইমেইলের সাথে অটোমেটিক যোগ করা যায়।
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
সিগনেচারে কি ফোন নাম্বার দেবো?
দিতে পারেন, তবে বাধ্যতামূলক না। আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য অনেকে WhatsApp বা ফোনের বদলে মিটিং বুকিং পরে রিপ্লাইতে দেন।
HTML সিগনেচার কি একদম চলবে না?
চলবে, কিন্তু যত সাধারণ রাখবেন তত ভালো। ভারী ডিজাইন cold email কে নিউজলেটারের মতো দেখায়।
কোম্পানি না থাকলে কী লিখবো?
নিজের নাম আর এক লাইনে আপনি কী করেন, সেটাই যথেষ্ট। চাইলে পোর্টফোলিও সাইটের লিংক দিন।
প্রতিটা ইনবক্সে কি আলাদা সিগনেচার হবে?
প্রতিটা ইনবক্স যে মানুষের নামে, সিগনেচারও তার নামে হবে। বাকি অংশ একই রাখতে পারেন।
পরের ধাপ
সিগনেচার ঠিক করার পর দিনে কতগুলো ইমেইল পাঠাবেন, সেটা নিয়ে লিখেছি সেন্ডিং লিমিট লেখায়। ইনবক্স সেটআপ থেকে প্রথম ইমেইল পাঠানো পর্যন্ত সব ছোট ছোট খুঁটিনাটি শিখতে Cold Email Outreach কোর্স দেখুন, আর নিজের সিগনেচার রিভিউ করাতে লাইভ সেশন এ আসুন।
আরও পড়ুন
- কোল্ড ইমেইল মার্কেটিং বাংলা গাইড: শুরু থেকে প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত
- একটা ইনবক্স থেকে দিনে কয়টা কোল্ড ইমেইল পাঠাবেন
- ইমেইল ওয়ার্মআপ কী, আর কতদিন করতে হয়
- SPF, DKIM আর DMARC সহজ ভাষায়, কোল্ড ইমেইলের আগে যা জানা দরকার
- কোল্ড ইমেইলের জন্য Google Workspace নাকি Outlook, কোনটা নেবেন
- কোল্ড ইমেইলের জন্য আলাদা ডোমেইন কেন কিনবেন