
সংক্ষেপে উত্তর: SPF বলে কোন সার্ভার আপনার ডোমেইন থেকে ইমেইল পাঠাতে পারবে, DKIM ইমেইলে একটা ডিজিটাল সিল দেয় যাতে বোঝা যায় পথে কেউ বদলায়নি, আর DMARC বলে এই দুটো চেক ফেল করলে প্রাপকের সার্ভার কী করবে। তিনটাই আপনার ডোমেইনের DNS এ TXT রেকর্ড হিসেবে বসে। ২০২৪ থেকে Gmail আর Yahoo বেশি পাঠানো সেন্ডারদের জন্য এগুলো বাধ্যতামূলক করেছে, আর cold email এ এগুলো ছাড়া কাজ শুরু করাই উচিত না।
একটা চিঠির উদাহরণ দিয়ে বুঝি
ধরুন আপনি একটা অফিসের রিসেপশনে চিঠি পাঠাচ্ছেন। রিসেপশনিস্ট তিনটা জিনিস দেখে:
- SPF: চিঠিটা কি অনুমোদিত পিয়ন নিয়ে এসেছে? অফিসের কাছে একটা লিস্ট আছে কোন পিয়ন কোন কোম্পানির চিঠি আনতে পারে।
- DKIM: খামের সিলটা কি অক্ষত? কেউ খুলে ভেতরের কাগজ বদলায়নি তো?
- DMARC: পিয়ন বা সিলে সমস্যা থাকলে কী করবো? ফেরত দেবো, আলাদা জায়গায় রাখবো, নাকি তবুও ভেতরে নেবো?
ইমেইলেও ঠিক এভাবেই কাজ হয়। প্রাপকের সার্ভার রিসেপশনিস্ট, আর আপনার DNS রেকর্ড হলো সেই লিস্ট আর নির্দেশনা।
তিনটা রেকর্ড দেখতে কেমন
| রেকর্ড | কোথায় বসে | উদাহরণ মান |
|---|---|---|
| SPF | ডোমেইনের মূল নামে TXT | v=spf1 include:_spf.google.com ~all |
| DKIM | প্রোভাইডারের দেওয়া selector নামে TXT | প্রোভাইডার একটা লম্বা key দেয় |
| DMARC | _dmarc নামে TXT | v=DMARC1; p=none; rua=mailto:you@yourdomain.com |
উপরের SPF উদাহরণটা Google Workspace এর জন্য। Microsoft 365 এর জন্য include অংশটা আলাদা হবে, সেটা তাদের ডকুমেন্টেশনে পাবেন। মনে রাখবেন, একটা ডোমেইনে SPF রেকর্ড একটাই থাকবে। দুটো সার্ভিস থেকে পাঠালে দুটো include একই রেকর্ডে লিখবেন।
সেটআপের ধাপ
- ডোমেইন রেজিস্ট্রার বা Cloudflare এ DNS সেটিংসে যান।
- প্রোভাইডারের গাইড থেকে SPF এর মান কপি করে TXT রেকর্ড বানান।
- Google Workspace এর অ্যাডমিন প্যানেল বা Microsoft এর সেটিংস থেকে DKIM key জেনারেট করুন, DNS এ বসান, তারপর প্যানেলে গিয়ে চালু করুন। অনেকে শেষ ধাপটা ভুলে যান।
- DMARC রেকর্ড বসান। শুরুতে p=none দিয়ে শুরু করা প্রচলিত, যাতে কিছু ব্লক না হয় কিন্তু রিপোর্ট আসে।
- কয়েক ঘণ্টা থেকে একদিন অপেক্ষা করুন, DNS আপডেট হতে সময় লাগে।
- নিজের একটা Gmail এ টেস্ট ইমেইল পাঠিয়ে “Show original” খুলে দেখুন SPF, DKIM, DMARC তিনটাই PASS দেখাচ্ছে কিনা।
DMARC পলিসি নিয়ে একটু বেশি
DMARC এ তিনটা পলিসি আছে: none, quarantine আর reject। none মানে শুধু নজর রাখো, quarantine মানে সন্দেহজনক হলে স্প্যামে পাঠাও, reject মানে ফিরিয়ে দাও। সবকিছু ঠিকঠাক PASS হচ্ছে নিশ্চিত হলে অনেকে পরে quarantine এ যান। cold email এর আলাদা ডোমেইনে অন্তত একটা DMARC রেকর্ড থাকা জরুরি, কারণ Gmail আর Yahoo এখন সেটা দেখে।
যে ভুলগুলো বারবার দেখি
- দুটো আলাদা SPF রেকর্ড বসানো, এতে SPF ফেল করে
- DKIM key বসিয়ে প্রোভাইডারের প্যানেলে চালু না করা
- DMARC রেকর্ডের নাম ভুল লেখা, যেমন dmarc লেখা কিন্তু শুরুতে আন্ডারস্কোর নেই
- সেন্ডিং টুল যোগ করার পর তাদের দরকারি রেকর্ড না দেওয়া, যদি তারা নিজস্ব সার্ভার থেকে পাঠায়
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
এগুলো ঠিক থাকলেই কি ইমেইল ইনবক্সে যাবে?
না, এগুলো শুধু প্রমাণ করে আপনি আসল সেন্ডার। ইনবক্সে যাওয়া নির্ভর করে লেখা, লিস্টের মান, পাঠানোর পরিমাণ আর রিপ্লাইয়ের উপরও।
মূল ডোমেইনেও কি এগুলো লাগবে?
হ্যাঁ, যেকোনো ডোমেইন যেটা থেকে ইমেইল যায়, সেখানেই এগুলো থাকা ভালো।
DMARC রিপোর্ট পড়বো কীভাবে?
রিপোর্টগুলো XML ফাইলে আসে, পড়তে কঠিন। কিছু ফ্রি টুল আছে যেগুলো রিপোর্ট সহজ করে দেখায়।
সেটআপ ঠিক হয়েছে কিনা কোথায় চেক করবো?
Gmail এর “Show original” সবচেয়ে সহজ। এছাড়া MXToolbox এর মতো সাইটে ডোমেইন লিখে রেকর্ড দেখা যায়।
পরের ধাপ
রেকর্ড বসানোর আগে কোন প্রোভাইডার নেবেন ঠিক না করলে Google Workspace নাকি Outlook লেখাটা আগে দেখুন। DNS প্যানেলে স্ক্রিন ধরে ধরে সেটআপ শিখতে Cold Email Outreach কোর্স দেখুন, আর কোনো রেকর্ড FAIL দেখালে লাইভ সেশন এ নিয়ে আসুন।
আরও পড়ুন
- কোল্ড ইমেইল মার্কেটিং বাংলা গাইড: শুরু থেকে প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত
- কোল্ড ইমেইলের জন্য Google Workspace নাকি Outlook, কোনটা নেবেন
- কোল্ড ইমেইলের জন্য আলাদা ডোমেইন কেন কিনবেন
- এমন অফার বানান যেটার রিপ্লাই না দিয়ে পারা যায় না
- আইডিয়াল ক্লায়েন্ট প্রোফাইল কীভাবে বানাবেন, এক পাতার একটা গাইড
- কোল্ড ইমেইল মার্কেটিং টিউটোরিয়াল: শূন্য থেকে প্রথম ক্যাম্পেইন