
সংক্ষেপে উত্তর: retainer মানে ক্লায়েন্ট প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা দেয়, আর আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ চলমান কাজ করেন। cold email এ প্রথম ইমেইলেই retainer চাওয়া কঠিন, তাই সাধারণত একটা ছোট এককালীন কাজ দিয়ে শুরু করে পরে মাসিক কাজের প্রস্তাব দেওয়া সহজ। অফারটা যেন পরিষ্কার হয়: প্রতি মাসে কী পাবে, কতটুকু পাবে, আর কীভাবে ফলাফল দেখবে।
কেন retainer নিয়ে ভাবা দরকার
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবচেয়ে বড় চাপ হলো অনিশ্চয়তা। এই মাসে কাজ আছে, পরের মাসে কী হবে জানি না। প্রতিটা প্রজেক্ট শেষ হলেই আবার নতুন ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয়।
retainer এই চক্রটা ভাঙে। কয়েকজন মাসিক ক্লায়েন্ট থাকলে আপনি জানেন মাসের শুরুতে মোটামুটি কত আয় আসবে। তখন cold email করেন শান্ত মাথায়, তাড়াহুড়া করে না।
কোন সার্ভিসে retainer মানায়
যে কাজ একবার করলেই শেষ না, বারবার করতে হয়, সেগুলোতে retainer স্বাভাবিক:
| সার্ভিস | মাসিক কাজের উদাহরণ |
|---|---|
| SEO | প্রতি মাসে কিছু পেজ অপটিমাইজ, রিপোর্ট |
| সোশ্যাল মিডিয়া | নির্দিষ্ট সংখ্যক পোস্ট ডিজাইন আর শিডিউল |
| ওয়েবসাইট মেইনটেনেন্স | আপডেট, ব্যাকআপ, ছোট পরিবর্তন |
| ইমেইল মার্কেটিং | প্রতি মাসে কয়েকটা ক্যাম্পেইন লেখা আর পাঠানো |
| ভিডিও এডিটিং | প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছোট ভিডিও |
লোগো ডিজাইন বা একবারের ওয়েবসাইট বানানোর মতো কাজে retainer কম মানায়, তবে সেখানেও পরে মেইনটেনেন্স যোগ করা যায়।
অফার সাজাবেন কীভাবে
একটা ভালো retainer অফারে এই জিনিসগুলো পরিষ্কার থাকে:
- কী কাজ: নির্দিষ্ট করে লিখুন, যেমন “প্রতি মাসে ১২টা পোস্ট” বা “৪টা ব্লগ”।
- কী বাদ: কোনটা এর মধ্যে পড়ে না, সেটাও বলুন, নইলে কাজ বাড়তেই থাকবে।
- কীভাবে রিপোর্ট: মাস শেষে ছোট একটা আপডেট দেবেন কিনা।
- কতদিনের: শুরুতে অল্প কয়েক মাসের কমিটমেন্ট চাওয়া সহজ, তারপর মাসে মাসে চালু থাকে।
- কীভাবে বন্ধ করবে: নোটিশ দিয়ে বন্ধ করার সহজ নিয়ম রাখলে ক্লায়েন্ট নিশ্চিন্তে শুরু করতে পারে।
cold email এ কখন retainer পিচ করবেন
আমি সাধারণত প্রথম ইমেইলে retainer এর কথা বলি না। প্রথম ইমেইলের কাজ হলো কথা শুরু করা। তারপর এভাবে এগোই:
- প্রথম ধাপে ছোট একটা কাজ বা অডিট, যেটা দ্রুত ফল দেখায়।
- কাজ দেওয়ার সময় দেখাই সামনে আর কী কী করা যায়।
- তখন প্রস্তাব দেই, এগুলো প্রতি মাসে নিয়মিত করলে কেমন হয়।
তবে যদি আপনার নিশে মাসিক কাজটাই স্বাভাবিক, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, তাহলে প্রথম ইমেইলেই মাসিক সার্ভিসের ইঙ্গিত দিতে পারেন।
উদাহরণ: ছোট কাজ শেষে retainer প্রস্তাব
ধরুন আপনি একজন ক্লায়েন্টের ব্লগের পাঁচটা পুরনো পোস্ট আপডেট করে দিলেন। কাজ জমা দেওয়ার সময় লিখলেন:
Hi Daniel,
All 5 posts are updated and live. I also made a list of 14 more older posts that could use the same changes.
If it helps, I can handle 4 posts every month so the blog keeps getting better without you thinking about it.
Want me to send a simple plan for that?
Mehedi
এখানে চাপ নেই, শুধু পরের স্বাভাবিক ধাপটা দেখানো হয়েছে।
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
retainer এর দাম কীভাবে ঠিক করবো?
প্রতি মাসের কাজের সময় হিসাব করুন, তারপর আপনার ঘণ্টার রেটের সাথে মেলান। বিস্তারিত প্রাইসিং পোস্টে লিখেছি।
ক্লায়েন্ট যদি বলে আগে এক মাস দেখি?
এটা স্বাভাবিক। এক মাস দিয়ে শুরু করুন, ভালো কাজ দেখালে চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
মাসে কতজন retainer ক্লায়েন্ট রাখা উচিত?
আপনার সময় অনুযায়ী। সব সময় retainer এ ভরে ফেললে নতুন বা বড় কাজের জায়গা থাকে না, তাই একটু ফাঁকা রাখা ভালো।
retainer এ কি অগ্রিম টাকা নেবো?
সাধারণত মাসের শুরুতে টাকা নেওয়াটাই প্রচলিত। নিয়মটা প্রথম থেকেই পরিষ্কার করে নিন।
পরের ধাপ
আপনার সার্ভিসের জন্য একটা মাসিক প্যাকেজ এক পাতায় লিখে ফেলুন। কীভাবে এটা অফার আর ক্লায়েন্ট কল এর সাথে মেলাবেন, সেটা নিয়ে কথা বলতে লাইভ সেশন এ আসুন, আর পুরো outreach সিস্টেম শিখতে Cold Email Outreach কোর্স দেখুন।
আরও পড়ুন
- কোল্ড ইমেইল মার্কেটিং বাংলা গাইড: শুরু থেকে প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত
- বড় ক্লায়েন্টের কাছে cold email: high ticket outreach এ কী আলাদা করতে হয়
- নিশ যত ছোট, reply তত বেশি: কেন সবার জন্য লিখলে কেউ উত্তর দেয় না
- কয়টা cold email পাঠালে কয়টা ক্লায়েন্ট: উল্টো দিক থেকে হিসাব
- Gmail দিয়ে কোল্ড ইমেইল: নিরাপদে পাঠানোর বাংলা গাইড
- প্রশ্ন দিয়ে subject line: কখন কাজ করে, কখন করে না
