Client Acquisition Courses

Fiverr গিগ ইমেজ: যে thumbnail দেখে buyer ক্লিক করে

Fiverr গিগ ইমেজ বা thumbnail ডিজাইনের গাইড

সংক্ষেপে উত্তর: Fiverr search পেজে buyer এক সেকেন্ডের মধ্যে ঠিক করে কোন গিগে ক্লিক করবে, আর সেই সিদ্ধান্তের বড় অংশ নেয় আপনার গিগ ইমেজ। একটা ভালো thumbnail এ থাকে একটাই পরিষ্কার মেসেজ, বড় লেখা যা মোবাইলেও পড়া যায়, আপনার নিজের কাজের নমুনা আর এমন রঙ যা আশেপাশের গিগ থেকে আলাদা দেখায়। ডিজাইনার না হলেও Canva দিয়ে এটা বানানো যায়।

অনেক student আমাকে বলে, “ভাই, impression আসে কিন্তু ক্লিক আসে না।” আমি তখন প্রথমেই গিগ ইমেজটা খুলে দেখি। দশবারের মধ্যে প্রায় সব সময় সমস্যাটা ওখানেই থাকে। লেখা এত ছোট যে পড়াই যায় না, অথবা ইমেজে এত কিছু ঠাসা যে চোখ কোথাও থামে না।

buyer আসলে thumbnail এ কী দেখে

একবার নিজেকে buyer এর জায়গায় বসান। ধরুন আপনি “shopify store design” লিখে সার্চ করলেন। সামনে চল্লিশটা গিগ। আপনি সব টাইটেল পড়বেন না। চোখ যাবে ছবির দিকে, আর ছবি দেখে তিনটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন:

  • এই লোকটা কি আমার কাজটাই করে?
  • কাজের মান কেমন হবে?
  • অন্যদের থেকে এর মধ্যে আলাদা কী আছে?

আপনার thumbnail যদি এই তিনটা প্রশ্নের উত্তর দুই সেকেন্ডে দিতে পারে, ক্লিক আসবে। না পারলে buyer স্ক্রল করে চলে যাবে।

একটা ভালো গিগ ইমেজের পাঁচটা অংশ

  1. একটা মূল কথা: ইমেজে বড় করে পাঁচ ছয় শব্দের একটা লাইন, যেমন “Shopify Store That Sells”। পুরো সার্ভিস লিস্ট লিখবেন না।
  2. কাজের নমুনা: নিজের করা কাজের একটা স্ক্রিনশট বা মকআপ। বাইরের কারো কাজ বা অন্য সাইট থেকে নেওয়া ছবি একদম না।
  3. মোবাইলে পড়া যায় এমন ফন্ট: মোটা, সাধারণ ফন্ট। পাতলা স্ক্রিপ্ট ফন্ট ছোট স্ক্রিনে হারিয়ে যায়।
  4. কনট্রাস্ট: হালকা ব্যাকগ্রাউন্ডে গাঢ় লেখা, বা উল্টোটা। লেখা আর ব্যাকগ্রাউন্ড একই রকম রঙ হলে চলবে না।
  5. ফাঁকা জায়গা: চারপাশে একটু খালি জায়গা রাখলে ইমেজটা পরিষ্কার আর প্রফেশনাল লাগে।

সাইজ আর ফরম্যাটের ব্যাপারে Fiverr মাঝে মাঝে গাইডলাইন আপডেট করে। তাই গিগ এডিট পেজে Gallery সেকশনে যে সাইজ সাজেস্ট করে, সেটাই ফলো করুন। আন্দাজে কোনো সাইজ বানিয়ে আপলোড করলে কোনা কেটে যেতে পারে।

নিজে বানানোর সহজ প্রক্রিয়া

আমি student দের এভাবে করতে বলি:

  1. নিজের keyword দিয়ে Fiverr এ সার্চ করুন আর প্রথম পেজের গিগগুলোর একটা স্ক্রিনশট নিন।
  2. খেয়াল করুন বেশিরভাগ গিগ কোন রঙ ব্যবহার করছে। ধরুন সবাই নীল আর সাদা। তাহলে আপনি হলুদ বা গাঢ় সবুজ ভাবতে পারেন।
  3. Canva তে গিগ সাইজের একটা খালি ডিজাইন খুলুন। বাঁ দিকে বড় লেখা, ডান দিকে কাজের মকআপ।
  4. ডিজাইনটা ফোনে পাঠিয়ে ছোট করে দেখুন। লেখা পড়তে কষ্ট হলে ফন্ট বড় করুন।
  5. স্ক্রিনশটের সাথে পাশাপাশি রেখে দেখুন আপনারটা আলাদা দেখাচ্ছে কি না।

যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি দেখি

ভুলকেন সমস্যাকী করবেন
ইমেজে অনেক লেখাbuyer কিছুই পড়ে নাএকটা মূল লাইন রাখুন
অন্যের কাজ বা ইন্টারনেটের ছবিFiverr এর নিয়ম ভাঙে, গিগ সরিয়ে দিতে পারেশুধু নিজের কাজ বা লাইসেন্সড ছবি
ইমেজে ফোন নম্বর, ইমেইল বা ওয়েবসাইটFiverr এর বাইরে যোগাযোগ নিষেধএসব কখনো দেবেন না
ঝাপসা বা কম রেজোলিউশনের ছবিকাজের মান খারাপ মনে হয়ঠিক সাইজে এক্সপোর্ট করুন
অন্য কারো গিগ হুবহু কপিরিপোর্ট খেতে পারেনআইডিয়া নিন, ডিজাইন নিজের করুন

বিশেষ করে তিন নম্বর ভুলটা নিয়ে সাবধান। ইমেজের এক কোনায় ছোট করে ইমেইল লেখা থাকলেও সেটা policy violation হিসেবে ধরা হতে পারে।

গ্যালারির বাকি ছবি আর ভিডিও

প্রথম ইমেজটা ক্লিক আনে, কিন্তু বাকি ছবিগুলো অর্ডার আনে। গিগ খোলার পর buyer গ্যালারি স্ক্রল করে। এখানে রাখতে পারেন:

  • একটা before and after ধরনের ছবি, যদি আপনার কাজে সেটা দেখানো যায়
  • আপনি কী কী ডেলিভার করবেন তার একটা সহজ তালিকা
  • আপনার কাজের প্রক্রিয়া তিন চার ধাপে

ভিডিও দিলে নিজের মুখ দেখিয়ে ছোট করে বলুন আপনি কাকে কী সাহায্য করেন। ইংরেজি নিখুঁত হওয়া লাগবে না, পরিষ্কার হলেই হবে।

একটা কথা মনে রাখবেন, ইমেজ বদলানোর পর ফল দেখতে কিছুদিন সময় দিন। প্রতিদিন বদলালে বুঝতেই পারবেন না কোনটা কাজ করছে। আমি সাধারণত দুই সপ্তাহ রেখে তারপর analytics এ ক্লিক দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলি।

প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

ডিজাইন না জানলে কি গিগ ইমেজ বানাতে পারবো?

পারবেন। Canva তে একটা সাধারণ লেআউট, বড় লেখা আর নিজের কাজের স্ক্রিনশট দিয়েই কাজ চলে। জটিল ডিজাইনের দরকার নেই।

গিগ ইমেজে নিজের ছবি দেওয়া কি ভালো?

অনেক সার্ভিসে মুখের ছবি বিশ্বাস বাড়ায়, যেমন কনসাল্টিং বা ভয়েস ওভার। ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্টে কাজের নমুনাই বেশি কথা বলে। নিজের niche এর প্রথম পেজ দেখে ঠিক করুন।

AI দিয়ে বানানো ছবি কি দিতে পারবো?

সাবধান থাকুন। ইমেজটা যেন আপনার আসল কাজকে ভুলভাবে না দেখায়। buyer যা দেখে অর্ডার দেবে, ডেলিভারিতে সেটাই পেতে হবে।

কতদিন পরপর ইমেজ বদলানো উচিত?

ঘন ঘন না। একটা ভার্সন অন্তত দুই সপ্তাহ চালিয়ে ক্লিক দেখুন, তারপর দরকার হলে একটা জিনিস বদলে আবার পরীক্ষা করুন।

পরের ধাপ

আজকেই নিজের গিগের ইমেজটা ফোনে খুলে দেখুন, দুই সেকেন্ডে কী বোঝা যায়। তারপর টাইটেল আর tag ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন, সেটা নিয়ে লিখেছি Fiverr Gig SEO গাইডে। পুরো Fiverr সেটআপ হাতে ধরে শিখতে চাইলে আমার কোর্সগুলো দেখতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Client Acquisition Program
Messenger