
সংক্ষেপে উত্তর: “Too expensive” শুনেই দাম কমিয়ে দেবেন না। আগে বুঝুন আপত্তিটা আসলে কী নিয়ে: বাজেট, মূল্য বোঝানো হয়নি, নাকি অন্য কারো সাথে তুলনা। তারপর দাম না কমিয়ে কাজের পরিধি কমিয়ে একটা ছোট অপশন দিন। এতে আপনার রেট ঠিক থাকে, আর ক্লায়েন্টও “হ্যাঁ” বলার একটা সহজ পথ পান।
দাম কমানো কেন প্রথম সমাধান না
ধরুন আপনি একটা ওয়েবসাইট রিডিজাইনের জন্য ৮০০ ডলার বললেন। ক্লায়েন্ট বললেন বেশি, আর আপনি সাথে সাথে বললেন “ঠিক আছে, ৫০০ তে করে দেবো।” ক্লায়েন্টের মাথায় এখন কী চলছে? “তাহলে আসল দাম ৫০০ ছিল? আর কোথায় বাড়িয়ে বলেছে?”
একবার কারণ ছাড়া দাম কমালে আস্থা কমে যায়। আর পরের প্রতিটা কাজে সে আবার দরদাম করবে। তাই আমি সবসময় বলি, দাম না, পরিধি নিয়ে কথা বলুন।
আপত্তির পেছনের চারটা কারণ
- সত্যিই বাজেট নেই। ছোট ব্যবসায় এটা খুব স্বাভাবিক।
- কাজের মূল্য পরিষ্কার না। তিনি দেখছেন খরচ, কিন্তু কী ফেরত পাবেন সেটা দেখছেন না।
- তুলনা করছেন। হয়তো কেউ কম দামে একই কাজের কথা বলেছে।
- শুধু যাচাই করছেন। অনেকে অভ্যাসবশত একবার দরদাম করেন।
কোনটা ঘটছে সেটা অনুমান না করে জিজ্ঞেস করুন। একটা ভদ্র প্রশ্নই যথেষ্ট।
উত্তর দেওয়ার একটা কাঠামো
আমি তিনটা ধাপে উত্তর দিই:
- মেনে নেওয়া: “Makes sense, it is a real investment.” তর্ক না।
- প্রশ্ন করা: কোন অংশটা তার কাছে বেশি জরুরি, বা তার বাজেট কোন রেঞ্জে।
- অপশন দেওয়া: দাম একই রেখে কাজ কমানো, অথবা কাজটা ধাপে ভাগ করা।
একটা উদাহরণ দেখুন:
Hi Sarah,
Totally fair, and thanks for being upfront.
To help me suggest something that fits, which part matters most right now: the new booking page or the full redesign?
If budget is tight, we could start with just the booking page and mobile fixes for a smaller fee, and do the rest later if it works for you.
Happy to send both options side by side.
Best,
Tanvir
এখানে আপনি দাম কমাননি। আপনি একটা ছোট প্যাকেজ দিয়েছেন। ক্লায়েন্টের কাছে এটা ঝামেলামুক্ত একটা শুরু।
পরিধি কমানোর কয়েকটা উপায়
- পাঁচ পেজের বদলে প্রথমে শুধু হোম আর সার্ভিস পেজ।
- মাসিক রিটেইনারের বদলে এক মাসের ট্রায়াল প্রজেক্ট।
- পুরো সেটআপের বদলে অডিট আর একটা অ্যাকশন প্ল্যান, বাস্তবায়ন পরে।
- রিভিশন সংখ্যা কমানো বা ডেলিভারি সময় একটু বাড়ানো।
প্রতিটা অপশনের সাথে পরিষ্কার লিখুন কী থাকছে আর কী থাকছে না। নইলে পরে ঝামেলা হয়।
কখন সরে আসবেন
সব ক্লায়েন্ট আপনার জন্য না। যদি কেউ এমন দাম চান যেটাতে কাজ করলে আপনার লোকসান হয়, ভদ্রভাবে না বলুন। লিখতে পারেন যে এই বাজেটে মানসম্মত কাজ দিতে পারবেন না, আর ভবিষ্যতে বাজেট বাড়লে যোগাযোগ করতে বলুন। একটা খারাপ দামের প্রজেক্ট আপনার পুরো মাসের সময় খেয়ে ফেলতে পারে, যেটা দিয়ে হয়তো আরও ভালো লিড খোঁজা যেত।
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
কখনোই কি দাম কমানো যাবে না?
যাবে, তবে কারণসহ। যেমন আগাম পুরো পেমেন্ট দিলে বা লম্বা মেয়াদের চুক্তি করলে একটু ছাড় দিতে পারেন। কারণ ছাড়া কমাবেন না।
ক্লায়েন্ট বলছেন অন্য কেউ অর্ধেক দামে করবে, কী বলবো?
অন্যকে ছোট না করে নিজের প্রক্রিয়া আর কী কী দিচ্ছেন সেটা পরিষ্কার করুন। তারপর সিদ্ধান্ত তার হাতে ছেড়ে দিন।
দাম ইমেইলে বলবো নাকি call এ?
সম্ভব হলে call এ পরিধি বুঝে তারপর লিখিত প্রপোজালে দাম দিন। তাতে দামের সাথে মূল্যটাও বোঝানো যায়।
প্রথম ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রেও কি এত কড়া থাকবো?
প্রথম দিকে একটু নমনীয় হওয়া ঠিক আছে, তবে সেটাও পরিধি কমিয়ে করুন। এতে রেটটা পরে বাড়ানো সহজ হয়।
পরের ধাপ
আপনার সার্ভিসের জন্য আজই তিনটা লেভেল লিখে ফেলুন: ছোট, মাঝারি আর পুরো প্যাকেজ। দাম নিয়ে আপত্তি এলে তখন আর ভাবতে হবে না। প্রথম ক্লায়েন্টের দাম কীভাবে ঠিক করবেন সেটা নিয়েও লিখছি এই সিরিজে, আর বিস্তারিত অনুশীলন আছে Cold Email Outreach কোর্স এ। প্রশ্ন থাকলে লাইভ সেশন এ আসুন।
আরও পড়ুন
- কোল্ড ইমেইল মার্কেটিং বাংলা গাইড: শুরু থেকে প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত
- “Not interested” reply পেলে কী করবেন, কী করবেন না
- কেউ আগ্রহ দেখিয়ে reply দিলে এরপর কী করবেন
- AI দিয়ে cold email লিখবেন, কিন্তু রোবোটিক শোনাবে না যেভাবে
- ইংরেজি দুর্বল? তবুও ভালো cold email লেখা যায়
- Cold email পাঠানোর সেরা দিন আর সময়: জাদুর ঘণ্টা নেই, তবে নিয়ম আছে
